এইচএসবিসি

হংকংয়ে বাণিজ্যিক সম্পত্তি খাতে ঋণের তিন-চতুর্থাংশ ঝুঁকিপূর্ণ

দীর্ঘদিন ধরে হংকংয়ে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা ব্যয় কমছে। একই সঙ্গে এশিয়ার অন্যতম এ আর্থিক কেন্দ্রে অফিস স্পেসের চাহিদা কমছে।

দীর্ঘদিন ধরে হংকংয়ে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা ব্যয় কমছে। একই সঙ্গে এশিয়ার অন্যতম এ আর্থিক কেন্দ্রে অফিস স্পেসের চাহিদা কমছে। এসব কারণে অঞ্চলটিতে বাণিজ্যিক সম্পত্তি ঋণের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে ইউরোপের বৃহত্তম ব্যাংক এইচএসবিসি। খবর এফটি।

এইচএসবিসির হিসাব হালনাগাদ করার পর দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ চলতি বছরের শুরু থেকে তিন গুণ বেড়েছে। এতে এইচএসবিসির মোট বাণিজ্যিক সম্পত্তি ঋণের ৭৩ শতাংশ এখন অকার্যকর অথবা অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এক বছর আগেও এ হার ছিল ৩০ শতাংশের কম।

হংকংয়ে এইচএসবিসির মোট বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার। চলতি বছরের শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৫০ কোটি ডলার, যা জুনের শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১০ কোটি ডলারে। পাশাপাশি ‘অকার্যকর’ হিসেবে বিবেচিত ঋণ ৪৫০ কোটি থেকে বেড়ে পৌঁছেছে ৫১০ কোটি ডলারে।

এ অবস্থায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সম্ভাব্য ঋণক্ষতির জন্য এইচএসবিসি ১১০ কোটি ডলার আলাদা করে রেখেছে, যার মধ্যে ৪০ কোটি ডলার হংকংয়ের বাণিজ্যিক সম্পত্তি খাতের জন্য রাখা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ সংকটের পেছনে প্রধান কারণ হলো হংকংয়ের বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট বাজারের করুণ অবস্থা। ২০১২ সাল থেকে অঞ্চলটির প্রধান প্রধান কেন্দ্রে অফিস ভাড়া ২০ শতাংশের বেশি কমেছে এবং অফিস ফাঁকা থাকার হার প্রায় ১৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, জুনের শেষে এইচএসবিসির স্থানীয় সহযোগী হ্যাং সেং ব্যাংকের অকার্যকর ঋণের অনুপাত ৬ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি ১৯৯৯ সালের এশিয়ায় আর্থিক সংকটের সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে এবং তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এইচএসবিসির এ সংকটের বড় একটি অংশ হ্যাং সেং ব্যাংক থেকে এসেছে। ব্যাংকটি ছোট ও মাঝারি আকারের ডেভেলপারদের বেশি ঋণ দিয়েছে, যারা এখন তীব্র আর্থিক সমস্যায় পড়েছে।

মর্নিংস্টারের এশিয়াবিষয়ক আর্থিক বিশ্লেষক মাইকেল মাকদাদ বলেন, ‘এ পরিস্থিতি বড় ধরনের সতর্ক সংকেত, যা দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে।’

হংকংয়ের বড় ডেভেলপাররা ক্ষতি শিকার করে বাজারের সম্পত্তির মূল্য কমিয়ে এনেছেন। তবে গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক গুরপ্রীত সিং সাহি বলছেন, ‘মূল সমস্যা বহুমুখী ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয় এমন ছোট ও মাঝারি ডেভেলপারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ।’

কিছু বিশ্লেষকের মতে, হংকংয়ের সম্পত্তি খাতের সংকট এখন তলানিতে পৌঁছেছে। তবে জেন স্ট্রিট ও হংকং এক্সচেঞ্জের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অফিস স্পেসের জন্য বড় আকারে লেনদেন করেছে সম্প্রতি, যা খাতটিতে চাহিদা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেডারিও গ্রাহকদের স্বল্পমেয়াদি চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে জানান, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে তিনি বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী।

আরও